পটুয়াখালী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত শাহজাহান খানের পৈতৃক সম্পত্তি দখল এবং উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বড় ছেলের বিরুদ্ধে। প্রয়াত নেতার মেয়ে আয়শা আক্তার শিথিল সম্প্রতি রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগগুলো গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, তার বড় ভাই মো. শিপলু খান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে বাবার রেখে যাওয়া স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির প্রায় পুরোটাই এককভাবে দখল করে রেখেছেন। পৈতৃক সম্পত্তিতে নিজেদের ন্যায্য হিস্যা চাইতে গেলে ভাই ও তার সহযোগীরা তাদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আয়শা আক্তার শিথিল জানান, ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে বরিশাল যাওয়ার পথে হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন তার বাবা শাহজাহান খান এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুর পর নিয়ম অনুযায়ী তার স্ত্রী ও তিন সন্তান এই সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হওয়ার কথা থাকলেও বড় ভাই শিপলু ক্ষমতার জোরে সবকিছু কুক্ষিগত করে রাখেন। পটুয়াখালীর আদালতপাড়া এলাকায় দশ কাঠা জমির ওপর পৈতৃক বাড়ি, সদর রোডে ছয়তলা হোটেল এবং সবুজবাগ এলাকায় একটি বহুতল ভবনসহ প্রচুর সম্পত্তি রয়েছে। অথচ এই বিপুল সম্পত্তির কোনো সুফল তারা পাচ্ছেন না এবং বাধ্য হয়ে তাকে পটুয়াখালীতে নামমাত্র চার হাজার টাকা ভাড়ার একটি বাসায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এমনকি তার ছোট ভাই শাখিল খানও কোনো আশ্রয় না পেয়ে বর্তমানে ঢাকায় শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
পরিবারের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ন্যায়বিচার ও সুরক্ষার জন্য ইতোমধ্যে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। গত বছর পটুয়াখালী সদর থানায় আয়শা ও তার মা পৃথকভাবে অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি করেন এবং পটুয়াখালী পৌরসভায় ন্যায্য অধিকার চেয়ে আবেদন করা হয়। এ ছাড়া প্রয়াত নেতার ব্যবসায়িক ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের দেওয়া একটি নিলাম বিজ্ঞপ্তি স্থগিত করাতে তিনি নিজেই উদ্যোগী হয়েছেন বলে দাবি করেন। বড় ভাই শিপলু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ও বিগত সরকারের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে সখ্যতা বজায় রেখে এসব সম্পত্তি আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মোু. শিপলু খানের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলનના শেষ পর্যায়ে আয়শা আক্তার শিথিল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে তারা শহীদ শাহজাহান খানের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও পৈতৃক সম্পত্তি থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত রয়েছেন এবং তাকে চার বছর ধরে নিজ বাসায় প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে অত্যন্ত দুরবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান। এই পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি জোর দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আকুল আবেদন জানানো হয়।