ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে রাজপথে নেমেছে ককরোচ জনতা পার্টি নামের একটি রাজনৈতিক দল। সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের কারসাজি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে দলটি। নতুন প্রজন্মের তরুণদের নেতৃত্বে গঠিত এই রাজনৈতিক দলের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার সময় পরিকল্পিতভাবে বিশেষ কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী। তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি, কিন্তু বর্তমান কমকর্তাদের কার্যক্রমে সেই নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার স্বার্থে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত বলে জোরালো দাবি জানান তারা।
মুম্বাইয়ের জনবহুল এলাকায় আয়োজিত এই প্রতিবাদ সমাবেশে তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ অংশ নেয় এবং তারা নানা স্লোগানের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে। জেন-জি প্রজন্মের এই রাজনৈতিক দলটি মনে করে, দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করতে হলে নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা আবশ্যক। আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাদের দাবি মানা না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এদিকে ভারতের নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে বিভিন্ন মহলের নানামুখী সমালোচনার মুখে পড়েছে দেশের এই শীর্ষ নির্বাচন আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠানটি। ককরোচ জনতা পার্টির এই আন্দোলন নির্বাচন কমিশনের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।