ডিজাইন: ইমেজ বন্ধ
শুক্রবার ০২ অক্টোবর ২০২৬

দৈনিক সময়কাল

আন্তর্জাতিক র‍্যানসমওয়্যার চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছে ১৬ বছরের এক কিশোর—ইউরোপে অভিযান


আন্তর্জাতিক র‍্যানসমওয়্যার চক্র 'কিলসেক'-এর মূল পরিচালনাকারী হিসেবে মাত্র ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে সন্দেহ করছে ইউরোপীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ইউরোপোলের সমন্বিত অভিযানে এই সাইবার অপরাধ চক্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি স্পেন, গ্রিস, রোমানিয়া ও যুক্তরাজ্যের আটটি স্থানে একযোগে এই অভিযান চালানো হয়। 'অপারেশন কিলসুইচ' নামের এই জোরালো অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং চক্রটির অনলাইন কার্যক্রম বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।

অভিযানের অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষ চক্রটির পাঁচটি কেন্দ্রীয় সার্ভার এবং ডার্ক ওয়েবে থাকা তথ্য ফাঁসের ওয়েবসাইটগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এসব সার্ভার ও সাইট থেকে অন্তত ১১০ টেরাবাইট চুরি করা সংবেদনশীল তথ্যের নিয়ন্ত্রণ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ইউরোপোলের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় এক হাজার সাইবার হামলার সঙ্গে এই চক্রের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০০টি হামলা সফল হয়েছিল বলে এখন পর্যন্ত তদন্তকারীরা নিশ্চিত হয়েছেন। জব্দকৃত তথ্যগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে বিশ্লেষণ করার পর হামলার এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, রোমানিয়ার এক ১৬ বছর বয়সী নাগরিক এই কিলসেক চক্রের মূল প্রশাসক হিসেবে কাজ করছিলেন। স্পেনের পুলিশ দেশটির আলিকান্তে প্রদেশ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এছাড়া এই চক্রের অপর এক সন্দেহভাজন ডেভেলপার সম্প্রতি প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কিছু ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল যখন তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই চক্রের একজন মধ্যস্থতাকারী এবং একজন সহযোগীর সন্ধানও পেয়েছে। অপরাধের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের চিহ্নিত করতে বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

গত বছর থেকে কিলসেক চক্রটি মূলত 'র‍্যানসমওয়্যার-অ্যা-সার্ভিস' মডেলে তাদের অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেমের দুর্বলতা এবং ক্লাউড স্টোরেজের অনিরাপদ প্রবেশপথ কাজে লাগিয়ে তারা সংবেদনশীল তথ্য চুরি করত। পরবর্তীতে ডার্ক ওয়েবের সাইটে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তারা মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করত। তদন্তে আরও জানা গেছে যে, সাইবার হামলার অবকাঠামো তৈরি ও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করত এই চক্রটি। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষও এই অভিযানে অংশ নেয় এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেন হওয়া অবৈধ অর্থের গতিপথ ট্র্যাক করার কাজ চলছে।