উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভোলার মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে অভিযান চালিয়েছে কোস্ট গার্ড। সম্প্রতি সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নসংলগ্ন মেঘনা নদীতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কিছু যন্ত্রপাতি ও নৌযানসহ কয়েকজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
অভিযানকালে কোস্ট গার্ডের দলটি ঘটনাস্থল থেকে চারটি খননযন্ত্র বা ড্রেজার এবং একটি বাল্কহেড জব্দ করে। নদী রক্ষার্থে উচ্চ আদালতের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। জব্দকৃত নৌযান ও ড্রেজারগুলোর মাধ্যমে নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল, যা পরিবেশ ও নদী শাসনের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ।
পরে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ভোলা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত এই ভ্রাম্যমাণ আদালতে দোষ প্রমাণিত হওয়ায় ড্রেজার ও বাল্কহেডের মালিকদের মোট দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার দায়ে আটক সাতজনকে দশ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ভোলা ও বরিশালের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এদিকে আটক ৮ জনের মধ্যে ইয়ামিন নামের ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে পরিবারের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। কোস্ট গার্ডের দক্ষিণ জোনের গণমাধ্যম কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন গণমাধ্যমকে এই অভিযان ও সাজার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিবেশ ধ্বংস ও নদীভাঙন রোধে ভোলার মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ওপর উচ্চ আদালত সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। তা সত্ত্বেও আইন অমান্য করে যারা নদী ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ডের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এমন সময়োপযোগী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছে।