মাত্র একুশ বছর বয়সী তরুণী মা জান্নাতুল মাওয়া সুমাইয়ার অকালমৃত্যুতে সন্দ্বীপের মাইটভাঙ্গা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পরও দুই বছরের অবুঝ সন্তানকে কাছে রাখার জেদেই তিনি হাসপাতালে ভর্তি হতে অস্বীকৃতি জানান। চিকিৎসকের কড়া নির্দেশ অমান্য করে বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিতে গিয়েই তিনি একপর্যায়ে মৃত্যুর মুখে পতিত হন, যা তার পরিবার ও এলাকাবাসীর জন্য এক গভীর বেদনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার এই মর্মান্তিক পরিণতি এলাকার মানুষকে স্তব্ধ করে দিয়েছে এবং সচেতনতার অভাব কতদূর ভয়াবহ হতে পারে তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর কিছুদিন আগে থেকেই তীব্র জ্বরে ভুগছিলেন ওই গৃহবধূ। চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করা হলে তার শরীরে ডেঙ্গুর উপস্থিতি ধরা পড়ে। সেই সময় তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কথা বলা হলেও তিনি ছোট সন্তানের কথা ভেবে সেই সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকেন। ফলে রোগের লক্ষণগুলো জটিল আকার ধারণ করতে শুরু করে এবং শেষ মুহূর্তে তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে ধাবিত হয়। স্থানীয় চিকিৎসকেরা পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাকে অবিলম্বে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেন।
রোগীর অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটলে তাকে প্রথমে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে প্রয়োজনীয় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ সুবিধা না থাকায় চিকিৎসকেরা তাকে জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রাম শহরে পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা তাকে স্পিডবোটযোগে উত্তাল নদীপথ পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রামে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে সাগরেই সবকিছুর অবসান ঘটে এবং তিনি না-ফেরার দেশে চলে যান।
এদিকে দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে বর্তমানে ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। গত কয়েক দিনে উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে শতাধিক ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসকেরা বিশেষভাবে সতর্ক করে বলেছেন যে জ্বর দেখা দিলে কোনো অবস্থাতেই অবহেলা করা উচিত নয়। শুরুতেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ না করলে এই মশাবাহিত রোগ প্রাণঘাতী রূপ ধারণ করতে পারে।