সাদ্দাম হোসেন, বিভাগীয় রিপোর্টার ঢাকা সময়ের সাথে প্রতিদিন
নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করে, এমন কর্মকাণ্ড ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সাংবিধানিক এই সংস্থা বলেছে, যারা নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে চায়, তাদের প্রতি মানবিক হওয়ার দরকার নেই। সাম্প্রতিক সময়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে মাঠপর্যায়ে যৌথ বাহিনীকে অভিযান জোরদার করতে নির্দেশনা দিয়েছে ইসি।
১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। এর পরদিনই ঢাকা ৮–এর সম্ভাব্য প্রার্থী, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে রাজধানীর পুরানা পল্টনে গুলি করা হয়। এ ঘটনার পর থেকেই জনতার মাঝে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে নানা সংশয় ও শঙ্কা দেখা দেয়। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদির মৃত্যু হয়। হাদির মৃত্যুর খবরে ওই রাতেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মানুষ রাস্তায় নেমে ক্ষোভ প্রকাশ করে। এতে দেশের বিভিন্ন জটিলতার সৃষ্টি হয় অর্থনৈতিক রাজনৈতিক সামাজিক জনজীবনে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয় সকলকে। পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা হয় প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে। এসব ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে থাকে।
এমন পরিস্থিতিতে গতকাল রোববার দুপুরে তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করে ইসি। এরপর বিকেলে নির্বাচন–পূর্ব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করে ইসি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সভাপতিত্বে বৈঠকে অন্য চার নির্বাচন কমিশনার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, তিন বাহিনীর প্রধানদের প্রতিনিধি, পুলিশ, বিজিবি, আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বৈঠকের সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।