ডিজাইন: ইমেজ বন্ধ
বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দৈনিক সময়কাল

ট্রাংক কেটে প্রশ্নপত্র চুরি, অন্তর্বাসে করে পাচার


শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ও পরীক্ষার পবিত্রতা বজায় রাখার সকল প্রচেষ্টা ব্যাহত করে সম্প্রতি এক অভাবনীয় চুরির ঘটনা ঘটেছে। পরীক্ষার গোপনীয় নথিপত্র এবং প্রশ্নপত্র সুরক্ষিত রাখার জন্য নির্ধারিত মজবুত ট্রাংক কেটে সেখান থেকে প্রশ্নপত্র উধাও করার মতো ঘটনা সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পরীক্ষার্থীদের ভাবিয়ে তোলার মতো এই ঘটনাটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বড়সড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সুরক্ষিত স্থান থেকে কীভাবে অতি গোপনীয় এই কাগজপত্র বাইরে চলে গেল, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে সংঘটিত এই অপরাধের পেছনে একটি সুসংগঠিত চক্র জড়িত রয়েছে। তালাবদ্ধ ট্রাংক বা সিন্দুক অক্ষত রেখে বা কেটে ভেতরে প্রবেশ করা সাধারণ মানুষের কাজ নয়, ফলে এর সাথে ভেতরের কেউ জড়িত থাকতে পারে বলেও জোরালো সন্দেহ করা হচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই অভিনব কায়দা এবং চুরির ধরন দেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও হতবাক হয়ে গেছেন। কীভাবে এই গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হলো তা উদ্ঘাটনে মাঠে নেমেছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, অত্যন্ত সুকৌশলে চুরি করা এই প্রশ্নপত্রগুলো অপরাধীরা তাদের অন্তর্বাসে লুকিয়ে বাইরে পাচার করত। তল্লাশি এড়াতে এবং সন্দেহ এড়াতে এই অদ্ভুত ও ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়েছিল বলে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা। এর মাধ্যমে প্রশ্নপত্রগুলো খুব সহজেই পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে ছড়িয়ে পড়ত এবং তা নির্দিষ্ট চক্রের হাতে পৌঁছে যেত। এই পাচার চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে এখন প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

এই নজিরবিহীন ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও মন্ত্রণালয়। পরীক্ষার সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ পরীক্ষার ক্ষেত্রে ট্রাংক বা বাক্সের পরিবর্তে আরও আধুনিক ডিজিটাল বা বহুস্তরের নিরাপত্তা লক ব্যবহারের কথা ভাবা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো।