ডিজাইন: ইমেজ চালু
সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬

দৈনিক সময়কাল

দুটি কিডনিই বিকল, বাবাকে বাঁচাতে ছোট্ট সুরার আকুতি


গাইবান্ধা প্রতিনিধি

বাবার মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে ছোট্ট শিশু নাফিছা ইয়াসমিন সুরা। কখনো বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে, কখনো চুপচাপ বসে থাকে পাশে। প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া সুরার একটাই চাওয়া- বাবা আবার আগের মতো সুস্থ হয়ে উঠুন। অফিস থেকে ফেরার পথে আগের মতো তার জন্য খেলনা আর চকলেট নিয়ে আসুন।

কিন্তু চার বছর ধরে দুটি কিডনি বিকল হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন সুরার বাবা নাহিদ হোসেন। পেশায় তিনি গাইবান্ধা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের কাউন্টার মাস্টার। গাইবান্ধা শহরের পলাশপাড়ায় তার বাড়ি। তিনিই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। অসুস্থতার কারণে এখন নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। এতে প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে পরিবারের আয়।

প্রতি সপ্তাহে রংপুরে গিয়ে ডায়ালাইসিস করাতে হয় নাহিদকে। এতে কোনোভাবে জীবন চলছে। তবে চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে দিন দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে পরিবারের সঞ্চয়। এখন নিয়মিত ডায়ালাইসিসের খরচ জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্বামীকে নিয়ে উৎকণ্ঠায় থাকা নাহিদের স্ত্রী সাথী আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার মেয়েটা বাবাকে অনেক ভালোবাসে। সারাক্ষণ বাবার কাছে থাকে। বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। ও শুধু চায়, বাবা সুস্থ হয়ে আবার আগের মতো বাড়ি ফিরুক।’

কিডনি দিতে প্রস্তুত স্ত্রী
নাহিদ হোসেন বলেন, চিকিৎসকেরা দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। আমার স্ত্রী সাথী আক্তার কিডনি দিতে প্রস্তুত। কিন্তু প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ১৫ লাখ টাকা জোগাড় করার সামর্থ্য আমাদের নেই।

তিনি বলেন, ‘বাড়ি বিক্রি করলেও এত টাকা পাওয়া যাবে না। আমি আমার সন্তানের জন্য বাঁচতে চাই।’

চিকিৎসক নেফ্রোলজিস্ট ফারুকুল হাসান তুষারের তত্ত্বাবধানে রংপুরের কছির উদ্দিন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাচ্ছেন নাহিদ। চিকিৎসক তুষার জানিয়েছেন, দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন করা প্রয়োজন। তা না হলে নাহিদকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

নাহিদের মা নাছিমা বেগম বলেন, তার পুত্রবধূ কিডনি দিতে প্রস্তুত। কিন্তু অপারেশনের খরচ জোগাড় করার সামর্থ্য তাদের নেই।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘সবাই যদি একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিত, তাহলে আমার ছেলেটার জীবনটা বাঁচাতে পারতাম।’

নাহিদের বাবা সাখোয়াত হোসেন গাইবান্ধা বাস মালিক সমিতির কর্মচারী। তার প্রতিদিনের আয় দিয়ে নিজের সংসারের খরচ চালানোই কঠিন। ছেলের চিকিৎসার জন্য ১৫ লাখ টাকা জোগাড় করা তার পক্ষে অসম্ভব।

সাখোয়াত হোসেন বলেন, ‘সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষগুলো একটু একটু করে সহযোগিতা করলে হয়তো আমার ছেলেকে বাঁচানো সম্ভব।’

সরকারি সহায়তার আশ্বাস
সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাসিরুদ্দিন পলাশ বলেন, জটিল রোগের ক্ষেত্রে সরকারি তহবিল থেকে এককালীন অনুদান দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নাহিদের পরিবার আবেদন করলে যাচাই-বাছাই করে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক বলেন, নাহিদকে জেলা পরিষদ ও ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সহযোগিতা করা হবে। তবে এই সহায়তা তার চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত নয়। চিকিৎসক হিসেবে কিডনি প্রতিস্থাপনের ব্যয় কমাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানান তিনি।

সময় যত গড়াচ্ছে, ততই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে নাহিদের জীবন। তবে ছোট্ট সুরার বিশ্বাস, বাবা আবার সুস্থ হয়ে উঠবেন। বাবার হাত ধরে আবার ফিরবেন স্বাভাবিক জীবনে।

সেই স্বপ্ন পূরণে নাহিদের পরিবার সমাজের বিত্তবান ও দানশীল মানুষের সহায়তা চেয়েছে। তাদের আশা, মানুষের সহযোগিতায় একজন বাবার জীবন বাঁচবে, ফিরবে একটি পরিবারের স্বস্তি এবং ছোট্ট সুরার মুখের হাসি।

সহায়তা পাঠানোর মাধ্যম: বিকাশ- ০১৮২৪৪৫৬২৮২