ডিজাইন: ইমেজ চালু
সোমবার ২৭ জুলাই ২০২৬

দৈনিক সময়কাল

পিআইজির প্রশিক্ষণে এমপি আবু সুফিয়ান: সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের প্রস্তাব সংসদে তুলবেন


সড়কে প্রাণহানি কমাতে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান। তিনি বলেন, শুধু আইন করলেই হবে না, এর কার্যকর বাস্তবায়ন, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি সেবা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি বাড়ানো জরুরি।

শনিবার (২৫ জুলাই) নগরের জিইসি মোড় এলাকার বনজৌর রেস্টুরেন্টে ‘স্ট্রেনদেনিং রোড সেফটি অ্যাক্ট অ্যান্ড সিভিল সোসাইটি অ্যাকশন ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় পলিসি ইনফ্লুয়েন্স গ্রুপ (পিআইজি) আয়োজিত সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এমপি আবু সুফিয়ান বলেন, দেশে প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইন প্রণয়নের পাশাপাশি পরিবহন মালিক, চালক, যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর প্রথম এক ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ের মধ্যে দ্রুত উদ্ধার, হাসপাতালে চিকিৎসা ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করা গেলে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

বিভিন্ন দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, দুবাইয়ে দুর্ঘটনার প্রতিটি ঘটনার কারণ তদন্ত করা হয়। বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আরও দক্ষ, শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক হতে হবে। পাশাপাশি চালক, পরিবহন শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে এমপি আবু সুফিয়ান বলেন, “আমি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের জন্য জাতীয় সংসদে প্রস্তাব পেশ করবো। দেশের স্বার্থে এ আইন এখন সময়ের দাবি।” তিনি আরও বলেন, সড়ক নিরাপত্তা কেবল পরিবহন খাতের বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা এবং জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

হাইওয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, সড়কে আইন প্রয়োগে অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতা বন্ধ করে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। এতে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে দুর্ঘটনা কিছুটা কমানো সম্ভব হবে। তবে সড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকদের প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশিক্ষণে সড়ক নিরাপত্তা আইন বাস্তবায়ন, গতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, দুর্ঘটনার পর জরুরি সেবা নিশ্চিতকরণ এবং সড়ক নিরাপত্তায় নাগরিক সমাজের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে সহায়ক হিসেবে ছিলেন স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের প্রকল্প সমন্বয়কারী চন্দর কুমার লাহড়ী। পিআইজি সদস্য সচিব ও দৈনিক পূর্বদেশের বার্তা প্রধান আবু মোশারফ রাসেলের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট সাংবাদিক এম নাসিরুল হক, ক্যাব বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সমাজকর্মী মিটুল দাস গুপ্ত, জান্নাতুল ফেরদৌস, মো. সেলিম জাহাঙ্গীর, ইসমাইল ফারুকী, শাহনেওয়াজ আলী মির্জা, মো. শাহীন চৌধুরী, এবিএম হুমায়ুন কবির, যুব ক্যাব চট্টগ্রামের সভাপতি আবু হানিফ নোমান, সায়মা হক, লায়লা ইয়াসমিনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।