ডিজাইন: ইমেজ চালু
বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল ২০২৬

দৈনিক সময়কাল

হতদরিদ্রের চাল কালোবাজারে! নান্দাইলে দুই হাজার কেজি ভিজিএফ চাল জব্দ


হাফেজ শাহ্ মিজানুর রহমান তালুকদার হারুন নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের নান্দাইলে দুস্থ ও হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ (VGF) কর্মসূচির দুই হাজার কেজি চাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। রোববার (১৫ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন খামারগাঁও বাজার থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুত রাখা অবস্থায় এই চাল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেন নান্দাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মো. সালাহউদ্দিন মাহমুদ।

জানা যায়, গত দুইদিন ধরে চন্ডিপাশা ইউনিয়ন পরিষদে অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে সরকারি ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রম চলছিল। কিন্তু একটি অসাধু চক্র এই চাল কালোবাজারে বিক্রির পাঁয়তারা করছিল। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন খামারগাঁও বাজারের বকুল মিয়া ও মতি মিয়ার দোকানে অভিযান চালায়। এ সময় দোকানগুলোর ভেতর থেকে ৩৪টি বস্তায় মোট দুই হাজার কেজি চাল জব্দ করা হয়। পাচারের সুবিধার্থে এবং প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে চালগুলো সরকারি সিলমোহরকৃত বস্তা থেকে বের করে সাধারণ খোলা বস্তায় মজুত করে রাখা হয়েছিল।

যেভাবে কালোবাজারে যাচ্ছিল চাল: স্থানীয়দের অভিযোগ, ভিজিএফ চাল বিতরণে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। কতিপয় অসাধু ইউপি সদস্য ও কিছু উপকারভোগী অর্থের বিনিময়ে তাদের চালের কার্ড স্থানীয় কালোবাজারি বেপারীদের কাছে বিক্রি করে দেন। পরবর্তীতে বেপারীরা সেই কার্ড ব্যবহার করে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চাল সংগ্রহ করে খোলা বস্তায় ভরে ওই দোকানগুলোতে মজুত করছিলেন। সুযোগ বুঝে এসব চাল বেশি দামে অন্যত্র বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল তাদের।

বঞ্চিতদের ক্ষোভ ও ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ: সরকারি চাল এভাবে ব্যবসায়ীদের গুদামে চলে যাওয়ার ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সোবহান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সত্যিকারের গরিব মানুষ, অথচ আমরা একটি চালের কার্ড পাই না। আর ইউপি সদস্যরা এই কার্ডগুলো ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেয়। আমরা এই দুর্নীতির সুষ্ঠু বিচার চাই।”

শুধু কার্ড বিক্রিই নয়, বিতরণের সময় ওজনে চাল কম দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ধূরুয়া গ্রামের আবদুর সালামসহ উপস্থিত অনেক উপকারভোগী জানান, সরকার নির্ধারিত যে পরিমাণ চাল দেওয়ার কথা, তাদের বস্তায় তার চেয়ে অনেক কম চাল দেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ করলে দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয়।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: চাল বিতরণে অনিয়ম ও মজুতের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চন্ডিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহাব উদ্দিন ভূঁইয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন নান্দাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, “গোপন খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা চালগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে আসি। হতদরিদ্রদের চাল আত্মসাতের সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”