ডিজাইন: ইমেজ চালু
মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর ২০২৬

দৈনিক সময়কাল

ডুমুরিয়ায় ২২ বছরেও সংস্কার নেই সড়ক, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ


সেলিম আবেদ, খুলনা প্রতিনিধি   খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরাঘোনা ইউনিয়নে বছরের পর বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে অধিকাংশ সড়ক। কোথাও ইটের সলিং উঠে গেছে, কোথাও সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও কৃষিপণ্য পরিবহন। স্থানীয়দের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি পরিবর্তন হলেও সড়কের দুর্দশা কাটেনি। এর পেছনে উন্নয়ন বরাদ্দের ঘাটতির পাশাপাশি রাজনৈতিক বিরোধের প্রভাব রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মাগুরাঘোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিনের দাবি, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের সঙ্গে তাঁর বনিবনা না হওয়ায় ইউনিয়নের উন্নয়নকাজ ব্যাহত হয়েছে। চেয়ারম্যানের ভাষ্য, ওই বিরোধের কারণে তিনি উন্নয়নকাজের সুযোগ পাননি। তাঁর মতে, মন্ত্রী-সংসদ সদস্যের সহযোগিতা ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করা কঠিন।’ জানা গেছে, ইউনিয়নের আরসনগর করিমবক্স বাজার হয়ে ইউনিয়ন হাইস্কুল পর্যন্ত ২ কিলোমিটার সড়কটি প্রায় ২২ বছর আগে ইটের সলিং দিয়ে নির্মাণ করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সড়কটির উল্লেখযোগ্য সংস্কার হয়নি। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে ইট উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ। বর্তমানে যানবাহন চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।   এ ছাড়া উত্তর মাগুরাঘোনার মৌলঙ্গিপাড়া সড়ক, মাগুরাঘোনা জেলা পরিষদ সড়ক, পাঁচুখালী-কাঞ্চনপুর সড়ক, মাগুরাঘোনা কর্মকারপাড়া সড়ক এবং বেতাগ্রাম-আটলিয়া সড়কসহ ইউনিয়নের ছোট-বড় বহু সড়ক বেহাল অবস্থায় রয়েছে। এসব সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু সংস্কারের অভাবে তাঁদের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। অন্যদিকে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়ে থাকলে তার মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ হোসেন সরদার বলেন, ‘করিমবক্স মোড় থেকে ইউনিয়ন হাইস্কুল পর্যন্ত সড়কটির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। এই সড়কের সঙ্গে পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পৃক্ত। ইটের সলিং এতটাই ভেঙে গেছে যে, শিশুরা হেঁটে চলাচল করতে গিয়েও হোঁচট খায়। এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ ও কৃষিপ্রধান হওয়ায় সড়কটির গুরুত্ব অনেক। কিন্তু রাস্তার দুরবস্থার কারণে কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত সবজি সহজে যানবাহনে করে বাজারে নিতে পারে না।’ স্থানীয় বাসিন্দা বিউটি বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের রাস্তার এই দুরবস্থা দীর্ঘদিনের। এ পর্যন্ত কত চেয়ারম্যান-মেম্বার পরিবর্তন হলো, কিন্তু রাস্তার পরিবর্তন হলো না। প্রতিদিন চলাচল করতে গিয়ে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’ স্থানীয় বিএনপি নেতা সরদার আব্দুল মালেক বলেন, ‘মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের অধিকাংশ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সড়ক উন্নয়ন করা হলেও মাগুরাঘোনার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে চোখে পড়ার মতো উন্নয়ন হয়নি।’ এদিকে নানা জটিলতায় আলাদিপুর-বাদুড়িয়া বাজার সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। সড়কটির নির্মাণকাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের কারণে কাজের স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণের গুণগত মান যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। স্থানীয়দের দাবি, মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও কৃষিপণ্য পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত সড়কগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে আলাদিপুর-বাদুড়িয়া বাজার সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ দ্রুত শেষ করে নির্মাণের মান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. দারুল হুদা জানান, ‘মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের সড়কগুলোর দীর্ঘদিন উন্নয়ন হয়নি। এসব সড়কের উন্নয়নে ইতিমধ্যে প্রাক্কলন তৈরির কাজ চলছে। কয়েকটি সড়ক নির্মাণের জন্য প্রকল্পও গ্রহণ করা হয়েছে। যেসব সড়ক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলো আগে উন্নয়নের আওতায় আনা হবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে অন্য সড়কগুলোরও উন্নয়ন করা হবে।