বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের নির্বাচন ১৮ অক্টোবর: প্রবাসে প্রচারণার উত্তাপ,
দুঃখিত, ছবিটি লোড করা যাচ্ছে না।
"বিশ্বনাথে চায়ের টেবিলে আলোচনার ঝড়
দুই প্যানেলে ৩৪ প্রার্থী, ভোটার ৮০৮; শিক্ষার উন্নয়ন ও মানবসম্পদ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে প্রার্থীরা"
ডেস্ক রিপোর্ট - লন্ডন, যুক্তরাজ্য থেকে
বিশ্বনাথ (সিলেট):
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিশ্বনাথী প্রবাসীদের বৃহত্তর সংগঠন হিসেবে পরিচিত বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের নির্বাচনকে ঘিরে যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিশ্বনাথ উপজেলাতেও জমে উঠেছে ব্যাপক আলোচনা ও উৎসাহ-উদ্দীপনা। আগামী ১৮ অক্টোবর ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সংগঠনটির বহুল আলোচিত নির্বাচন। এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রবাসী কমিউনিটি থেকে শুরু করে দেশের মাটিতে অবস্থানরত ট্রাস্টি, প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ।
স্থানীয় পর্যায়ে চায়ের দোকান, বাজার, সামাজিক আড্ডা, পারিবারিক বৈঠক থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে এখন আলোচনার অন্যতম বিষয় বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের নির্বাচন। কোন প্যানেল জয়লাভ করবে, কারা সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসবেন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বিশ্বনাথের শিক্ষা উন্নয়নে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন—এসব প্রশ্ন ঘিরেই চলছে নানা আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ।
নির্বাচনকে সামনে রেখে দুটি প্যানেলের প্রার্থীরা নিজেদের পরিকল্পনা, প্রতিশ্রুতি ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন আদায়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রবাসে নির্বাচনী প্রচারণার পাশাপাশি দেশের মাটিতেও দুই প্যানেলের সমর্থকদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা। সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে বিশ্বনাথী প্রবাসী ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে লক্ষ করা যাচ্ছে বিশেষ আগ্রহ।
দুই প্যানেলে ৩৪ প্রার্থী, ভোটার ৮০৮
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এবারের নির্বাচনে দুটি প্যানেল থেকে মোট ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে মোট ভোটার রয়েছেন ৮০৮ জন। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রার্থীদের ব্যস্ততা ও সমর্থকদের তৎপরতা।
প্রায় দেড় মাস ধরে দুই প্যানেলের প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে নানা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়, সভা-সমাবেশ এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁরা সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন।
প্রার্থীদের কেউ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা তুলে ধরছেন, কেউ দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন, আবার কেউ ট্রাস্টের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও শিক্ষা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় শিক্ষা, তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ, বেকারত্ব মোকাবিলা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং বিশ্বনাথের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে এবারের নির্বাচন কেবল নেতৃত্ব নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও শিক্ষা উন্নয়নে ভূমিকা নিয়েও আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
বিশ্বনাথেও নির্বাচনী উত্তাপ
যুক্তরাজ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চললেও এর প্রভাব পড়েছে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলাতেও। প্রবাসী অধ্যুষিত এ জনপদে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও পরিচিতজনদের মধ্যে নির্বাচনী আলোচনা ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।
দেশে অবস্থানরত বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থকেরা যুক্তরাজ্যে বসবাসরত আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং ট্রাস্টিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে সমর্থন চাইছেন। সামাজিক যোগাযোগ ও ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টাও চলছে।
চায়ের টেবিলের আড্ডা থেকে শুরু করে সামাজিক ও পারিবারিক আলোচনায় উঠে আসছে প্রার্থীদের যোগ্যতা, অতীতের ভূমিকা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সংগঠনের শিক্ষা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের সম্ভাবনা। কে কতটা গ্রহণযোগ্য, কার পরিকল্পনা বাস্তবায়নযোগ্য এবং নির্বাচিত হলে কে সংগঠনকে আরও এগিয়ে নিতে পারবেন—এসব বিষয় নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।
স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনের এমন আলোচনা বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টকে ঘিরে মানুষের আগ্রহেরই প্রতিফলন। তবে নির্বাচনের প্রকৃত চিত্র নির্ধারিত হবে ভোটারদের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েই।
চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ মিছবাহ উদ্দিনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা
বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ মিছবাহ উদ্দিন নির্বাচিত হলে বিশ্বনাথে একটি বিশ্বমানের স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
তিনি বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে বিশ্বনাথে একটি বিশ্বমানের স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করব এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করব।”
তাঁর এই পরিকল্পনায় বিশ্বনাথের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি এবং মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
বিশ্বনাথের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হতে পারে। তবে এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজন যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই, আর্থিক সংস্থান, দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনব্যবস্থা। নির্বাচিত হলে এসব বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা ভবিষ্যতে তাঁর কর্মপরিকল্পনায় স্পষ্ট হওয়ার প্রত্যাশা থাকবে।
শিক্ষা সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান নিয়ে গোলজার খানের অঙ্গীকার
চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী গোলজার খানও বিশ্বনাথের শিক্ষা উন্নয়ন এবং তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
তিনি বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে বিশ্বনাথে শিক্ষার প্রসারে এবং বেকার যুবক-যুবতীদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে প্রচেষ্টা চালাব।”
তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি বেকার যুবক-যুবতীদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
বর্তমান সময়ে কর্মমুখী শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তথ্যপ্রযুক্তি, আধুনিক কারিগরি শিক্ষা, ভাষা শিক্ষা এবং বিভিন্ন পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।
বিশ্বনাথের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করার ক্ষেত্রে পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা এবং কর্মসংস্থানের বাজারের চাহিদা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। গোলজার খানের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ মোহাব্বত শেখের প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ
বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোহাম্মদ মোহাব্বত শেখ নির্বাচিত হলে পরীক্ষার ফলাফল উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল বৃদ্ধিতে এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে একটি ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেব।”
তাঁর প্রস্তাবিত প্রশিক্ষণকেন্দ্র শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সহায়তা, পরীক্ষার প্রস্তুতি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্বনাথের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা গেলে তা শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতিতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্প ব্যয়ে বা বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে এর সুফল আরও বিস্তৃত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর সুযোগ থাকবে।
তবে প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিত করা, যোগ্য প্রশিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের চাহিদা নিরূপণ এবং কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাস্টের ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রত্যয় আব্দুল কুদ্দুছের
সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আব্দুল কুদ্দুছ ট্রাস্টের গৌরবময় ঐতিহ্য ও শিক্ষা উন্নয়নমূলক ভূমিকা ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “ট্রাস্টের গৌরবময় ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মকে শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করব।”
তাঁর বক্তব্যে সংগঠনের ঐতিহ্য সংরক্ষণ, নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা এবং শিক্ষার প্রসারে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে।
প্রবাসী সংগঠনগুলোর শিক্ষা ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে এগিয়ে নিতে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা, নেতৃত্ব, স্বেচ্ছাসেবা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা গেলে সংগঠনের কার্যক্রমে নতুন উদ্যম ও পরিকল্পনার সংযোজন ঘটতে পারে।
আব্দুল কুদ্দুছের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সংগঠনের বিদ্যমান ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
শিক্ষা উন্নয়নই নির্বাচনী আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু
বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের এবারের নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের বক্তব্যে একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়—শিক্ষার উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের প্রতিশ্রুতি।
বিশ্বনাথের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, পরীক্ষার ফলাফল উন্নয়নে সহায়ক কার্যক্রম, কারিগরি ও পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলার বিষয়গুলো প্রার্থীদের পরিকল্পনায় স্থান পেয়েছে।
এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা স্থানীয় শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা, আর্থিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা উন্নয়নের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
তবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রকৃত মূল্যায়ন হবে সেগুলোর বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সুফলের ভিত্তিতে। কোন পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তার জন্য প্রয়োজন সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা, বাজেট, সময়সীমা এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা।
ভোটারদের সিদ্ধান্তেই নির্ধারিত হবে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব
৮০৮ জন ভোটারকে নিয়ে অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনে দুই প্যানেলের মোট ৩৪ জন প্রার্থীর অংশগ্রহণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। ভোটারদের সমর্থন পেতে প্রার্থীরা নিজেদের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। অন্যদিকে সমর্থকেরাও পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এখন দেখার বিষয়, ভোটাররা কোন প্যানেলকে বেছে নেন এবং নির্বাচিত নেতৃত্ব সংগঠনের শিক্ষা ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে কতটা এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়।
নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন নেতৃত্বের কাছে ভোটারদের প্রত্যাশা থাকবে—সংগঠনের ঐতিহ্য রক্ষা, আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, শিক্ষা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমকে গতিশীল করা এবং বিশ্বনাথের শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের জন্য কার্যকর সুযোগ সৃষ্টি করা।
প্রত্যাশা, প্রতিশ্রুতি ও আগামীর হিসাব-নিকাশ
বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের নির্বাচন ঘিরে যুক্তরাজ্যের প্রবাসী কমিউনিটি ও বিশ্বনাথের মানুষের মধ্যে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা নির্বাচনের গুরুত্বকেই সামনে নিয়ে এসেছে। দুই প্যানেলের প্রার্থীদের প্রচারণা, সমর্থকদের তৎপরতা এবং দেশের মাটিতে চলমান আলোচনা—সব মিলিয়ে ১৮ অক্টোবরের নির্বাচনকে ঘিরে অপেক্ষা বাড়ছে।
তবে নির্বাচনের উত্তাপ ও প্রতিশ্রুতির বাইরেও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, নির্বাচিত নেতৃত্ব কীভাবে সংগঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তোলা কিংবা তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা, বাস্তবসম্মত অর্থায়ন এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টা।
ভোটাররা তাঁদের বিবেচনায় যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন—এমন প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের নির্বাচনী কার্যক্রম।
আগামী ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ভোটের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে সংগঠনটির পরবর্তী নেতৃত্ব। এখন সবার দৃষ্টি নির্বাচনের ফলাফল এবং নির্বাচিত নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার দিকে।