ডিজাইন: ইমেজ চালু
বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২৬

দৈনিক সময়কাল

রুশ ভূখণ্ড ‘অবরোধের প্রস্তুতি’ ন্যাটোর, জবাবে পারমাণবিক হামলার হুমকি মস্কোর


বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত রুশ ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদ বিচ্ছিন্ন করার যেকোনো পরিকল্পনার কঠোর জবাব দেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে মস্কো। সম্প্রতি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো যদি এই কৌশলগত অঞ্চলে আকাশ ও নৌপথে অবরোধ আরোপের চেষ্টা চালায়, তবে এর পাল্টা হিসেবে পূর্ণ সামরিক শক্তি প্রয়োগ করবে রাশিয়া। এমনকি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতেও পিছপা হবে না বলে কূটনৈতিক বার্তায় স্পষ্ট করে জানিয়েছে ক্রেমলিন।

মস্কোর পক্ষ থেকে সম্প্রতি ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো এক কূটনৈতিক নথিতে এই চরম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের হাতে নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে যা ইঙ্গিত করে যে ন্যাটো জোরালোভাবে কালিনিনগ্রাদ অবরুদ্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। উল্লেখ্য, পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত এই বিচ্ছিন্ন রুশ অঞ্চলটি সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল। সেখানে মস্কোর বাল্টিক নৌবহরের মূল ঘাঁটির পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম অত্যাধুনিক ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে।

রাশিয়ার এই হুমকির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে। তিনি মস্কোকে এ ধরনের পারমাণবিক হুমকি দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন যে পশ্চিমা এই সামরিক জোট মূলত একটি প্রতিরক্ষামূলক শক্তি। একই সঙ্গে রাশিয়ার হুমকির গুরুত্ব কিছুটা লঘু করে মার্ক রুটে মন্তব্য করেছেন যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন খুব ভালো করেই জানেন ন্যাটোর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জয়লাভ করা রাশিয়ার পক্ষে সম্ভব নয়।

এদিকে, ইউক্রেন সংঘাত শুরুর পর থেকেই রাশিয়া ও ন্যাটোর মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী এই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকেও ছড়িয়ে পড়ছে। সম্প্রতি ডেনমার্কের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে বাল্টিক সাগরের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় একটি ডেনিশ সামরিক হেলিকপ্টারের কাছাকাছি রুশ যুদ্ধজাহাজ থেকে সংকেত-আলো বা ফ্লেয়ার ছোড়া হয়েছিল। পাশাপাশি, নিজেদের আকাশসীমায় রুশ ড্রোন বা বিমানের কথিত অনুপ্রবেশের ঘটনার প্রেক্ষাপটে পোল্যান্ডও তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে।