ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা আলোচিত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অভিযোগ গঠনের অসমাপ্ত শুনানি আবারও পিছিয়েছে। নির্ধারিত দিনে আদালতের বিচারক উপস্থিত না থাকায় চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারিক কার্যক্রমের নতুন দিন নির্ধারণ করেছে সংশ্লিষ্ট আদালত।
ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর অনুপস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। পরে আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৫ অক্টোবর নতুন দিন ধার্য করেন। এর আগে বিভিন্ন ধাপে মামলাটির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিচারিক আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, এই মামলায় বর্তমানে কারাবন্দি থাকা ২৪ জন আসামিকে পুলিশি নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়েছিল। হাজির হওয়া এসব বন্দির মধ্যে ২০ জন পুরুষ এবং ৪ জন নারী রয়েছেন। এর আগে গত মার্চ মাসে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয়েছিল।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক গত বছর শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ তদন্ত শেষে একই বছরের জুলাই মাসে মোট ২৮৬ জনকে আসামি করে আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। গত বছর আগস্ট মাসে আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বী আলমের নেতৃত্বে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর একটি জুম সভায় শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন নেতাকর্মী অংশ নেন। সেই সভায় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ক্ষমতাচ্যুত করার নির্দেশমূলক দেশবিরোধী বক্তব্য দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তীতে সেই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।