সিন্ধু প্রদেশের লোকেরা ইমরান খানের ওপর যে কারণে ক্ষুব্ধ

অনলাইন ডেস্ক

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সিন্ধু প্রদেশের স্বৈরশাসক ছিলেন কিনা সে বিষয়ে ভাবতে শুরু করেছেন সিন্ধু প্রদেশের লোকেরা। তারা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী খুব কমই সিন্ধু সরকারের বিষয়গুলোতে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ এড়িয়ে চলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরের সংবাদমাধ্যম দ্য সিঙ্গাপুর পোস্টের এক প্রতিবেদন থেকে এসব খবর জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সিন্ধু প্রদেশের লোকেরা মনে করেন, কখনও কখনও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সিন্ধুতে হাসপাতালের দায়িত্ব নেওয়ার আদেশ দেন। এছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ফেডারেল সরকার সিন্ধু মেডিকেল কলেজগুলোকে প্রদেশের বাইরের শিক্ষার্থীদের ভর্তি করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে, প্রদেশের বাইরের কলেজগুলোতে সিন্ধু মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য কোনো ছাড় দেওয়ার বিষয়গুলোকে সরকার অস্বীকার করেছে বলেও প্রদশেটির বাসিন্দারা বলছেন।
এছাড়া ফেডারেল সরকার সিন্ধুতে আর্থিক বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে যা ইমরান খান সরকার কর্তৃক সিন্ধু জনগণের প্রতি অন্যায়ের বহিঃপ্রকাশ। এই পদক্ষেপ ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ এবং বিভেদকে আরও গভীর করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে জাতীয় পরিষদের সিন্ধি সদস্য সরদার মোহাম্মদ খান সরকারের সিদ্ধান্ত সংবিধানের নীতি লঙ্ঘন করেছে উল্লেখ বলেন, ‘সিন্ধু হলো একটি মিনি পাকিস্তান যেখানে সমস্ত প্রদেশ থেকে লোকেরা কর্মসংস্থানের জন্য আসে এবং প্রদেশটি সীমিত সংস্থান থাকা সত্ত্বেও তাদের সকলকে সংযুক্ত করে। তবে ইমরান খান সরকার প্রতিটি দিন সিন্ধুর জন্য সমস্যা তৈরি করে চলেছে।’
দ্য ইন্সটিটিউট অফ সোশ্যাল অ্যান্ড পলিসি সায়েন্সের (আইএসএপিএস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করাচিসহ সিন্ধু জুড়ে প্রায় মিলিয়ন শিশু পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এছাড়া প্রদেশে ৬৫ হাজারেরও বেশি সরকারি বিদ্যালয় ভবন জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়।
প্রসঙ্গত, সিন্ধুতে দারিদ্র্যের অবনতির অন্যতম প্রধান কারণ হলো গ্রামীণ অঞ্চলে বেকারত্বের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সেখানে বছরের পর বছর ধরে কৃষিকাজ অস্বাভাবিক হয়ে পড়েছে। প্রদেশে শিল্প ও সেবার অভাবে আরও বেশি সংখ্যক পরিবার দারিদ্র হয়েছে।