৪৫ কোটিরও বেশি মানুষকে করোনা ভ্যাকসিন দেবে উইরোপ

৪৫ কোটিরও বেশি মানুষকে করোনা ভ্যাকসিন প্রদানের লক্ষ্যে অভিযান শুরু করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ফ্রান্সের নার্সিং হোম থেকে শুরু করে পোল্যান্ডের হাসপাতাল, রোববার থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশে একযোগে ফাইজার-বায়োনটেকের তৈরি ভ্যাকসিন দেয়া শুরু হয়েছে।
দিনটিকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইইউ’র ২৭টি সদস্য দেশে ফাইজার-বায়োএটেকের ভ্যাকসিন পৌঁছে গেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৪৪৬ মিলিয়ন অর্থাৎ ৪৬ কোটি মানুষকে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে। তিনি কর্মসূচি শুরুর সময়টিকে গত একশ বছরের মাঝে দেখা দেয়া সবচেয়ে গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত এ সংকট থেকে ইইউ’র ৪৫ কোটি মানুষকে রক্ষার লড়াইয়ের ‘ঐক্যের মর্র্মস্পর্শী মুহূর্ত’ বলে বর্ণনা করেছেন। ইউরোপে এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৩৫ হাজার মানুষ কোভিডে প্রাণ হারিয়েছেন। ইউরোপিয়ান মেডিসিনস এজেন্সি (ইএমএ) এবং ইউরোপিয়ান কমিশন ফাইজার-বায়োএনটেকের করোনা টিকা অনুমোদনের পর নিজ নিজ নাগরিকদের আওতায় নিয়ে আসতে উদ্যোগী হন অঞ্চলটির রাষ্ট্রপ্রধানরা। টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ দেশ জার্মানির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইয়েন্স স্পান বলেন, ‘এসে গেছে, বড়দিনে এসেছে সুখবর। এ টিকা হলো মহামারির ইতি টানার চূড়ান্ত সহায়…এটি হলো আমাদের জীবন ফিরে পাওয়ার সহায়।’ ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লুইজি দি মাইও জানিয়েছেন, ‘টিকা নেয়ার মাধ্যমে আমরা আবারো স্বাধীনভাবে চলতে ফিরতে পারবো। একে অপরকে আবারো জড়িয়ে ধরবো।’
ইউরোপীয় ইউনিয়ন যখন গণহারে ভ্যাকসিনটির প্রয়োগ শুরু করছে, তখন যুক্তরাজ্য থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনার নতুন ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। যা ৭০ গুণ দ্রুত ছড়াতে পারে। ইতোমধ্যে সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, স্পেন, ফ্রান্স, জাপান ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। পদক্ষেপ হিসেবে, ব্রিটেনের সঙ্গে সাময়িক সময়ের জন্য সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে অনেক দেশ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপের আঞ্চলিক জোটটির প্রায় সবকটি দেশেই বর্তমানে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে।
তবে ইইউজুড়ে টিকাদান শুরুর এক দিন আগেই জার্মানি, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ায় টিকা দেয়া শুরু হয়ে গেছে। জার্মানির এক বৃদ্ধাশ্রমে শনিবার বেশ কয়েকজন প্রবীনকে টিকা দেয়া হয়। সেখানে কর্মরত একজন বলেন, যেখানে একটি বিষয়ের জন্য প্রতিটি দিনিই অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে সেখানে একটি দিনই অনেক বড় সময়। কয়েক সপ্তাহ আগেই ব্রিটেন, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে টিকাদান শুরু হয়ে যাওয়ায় এ বিষয়ে ইইউ’র বাসিন্দাদের মাঝে হতাশা বাড়ছিল। এখন তাদের দেশগুলোতেও শেষ পর্যন্ত টিকা এসে যাওয়ায় হতাশা দূর হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রথম দিকে টিকা করা পাবে তা দেশগুলো নিজেরা ঠিক করে নিচ্ছে। স্পেন, ফ্রান্স ও জার্মানিসহ অন্যান্য দেশ প্রথমে প্রবীণ জনগোষ্ঠী ও বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দাদের টিকা দেয়ার অঙ্গিকার করেছে। ভাইরাসে ৭১ হাজারের বেশি মৃত্যু নিয়ে ইউরোপের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ইতালির রোমে সংক্রামক রোগ সংক্রান্ত প্রধান প্রতিষ্ঠান স্পালানজানি হাসপাতালের একজন নার্স দেশটির প্রথম ব্যক্তি হিসেবে টিকা নেন। পরে স্বাস্থ্য কর্মীদের টিকা দেয়া হবে। পোল্যান্ডও চিকিৎসক, নার্স ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে সামনের সারিতে থাকা অন্যদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শনিবার জার্মানির সাক্সেনি আনহাল্ট রাজ্যের হালবেস্টাট শহরে ১০১ বছর বয়সী এডিথ কোভাজেলা নামের এক নারীকে প্রথম টিকা দিয়ে টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
ইউরোপীয় ওষুধ সংস্থা আগামী ৬ জানুয়ারি করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় একটি টিকার অনুমোদন দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে। এটি হবে মডার্নার টিকা। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এ টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস।