ডা. মেহেদীর চিকিৎসায় সুস্থ হলেন ১৯ করোনা রোগী

করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত হয়ে ডাক্তার মেহেদী হাসানের চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে গেছেন ১৯ ব্যক্তি। এর মধ্যে অধিকাংশ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট অফিসার ও পুলিশ অফিসার শিক্ষক ইত্যাদি।

এদিকে, মানুষের বিপদের সময় পাশে থেকে সহযোগিতা করাই মানুষের ধর্ম হওয়া উচিত। একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে যদি একটি প্রাণ বাঁচে; একজন মানুষ বাঁচার স্বপ্ন দেখে—তাতেই হয়তো জীবনের সার্থকতা খুঁজে পাওয়া সম্ভব এমনটাই মনে করেন তরুণ চিকিৎসক মেহেদি হাসান।

কোভিড-১৯ পজিটিভ রোগীদের একক সেবায় রেকর্ড গড়ছেন ডাক্তার মেহেদি । গভীর আগ্রহে এবং আন্তরিকতার সাথে বিনামূল্যে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত তিনি।

ডাক্তার মেহেদী মনে করে ,করোনায় আক্রান্ত হলে মনোবল শক্তি দুটোই দরকার, ভেঙ্গে পড়া যাবেনা। মাথায় রাখতে হবে সঠিকভাবে নিয়মকানুন মানলে এরোগী এমনেই ভালো হয়ে যায়।

এদিকে ডাক্তার মেহেদী করোনা নিয়ে প্রচুর পড়াশোনা করেছেন। প্রতিদিন ঋদ্ধ হচ্ছেন।নিজের সাহস রোগীতে সঞ্চার করেন। রোগীর মনোবল চাঙ্গা রাখেন। তার রোগীরা সংকটের সামনের সারির যোদ্ধা। যাদের তিনি বিনামূল্যে সেবা দিচ্ছেন।

তিনি মনে করেন, মাঠের যোদ্ধারা ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে।

তার ক্লান্তিহীন নিবিড় চেষ্টায় প্রায় ২০ জন ইতোমধ্য সুস্থ হয়েছেন যাদের কোভিড-১৯, পজিটিভ ছিল। এরা ঢাকা বিভাগে কর্মরত বিসিএস প্রশাসন, পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবার। একই পরিবারের সাত জনের কয়েকজন। বাকিরাও সুস্থের পথে। আত্মীয়, বন্ধু, প্রতিবেশী, সহকর্মীদেরও সেবা দিচ্ছেন। পজিটিভ অন্যদেরও শীঘ্রই নেগেটিভ রিপোর্ট আসবে বলে আত্মবিশ্বাসী।

যুদ্ধে হাতিয়ারের চেয়ে বড় মনোবল, তিনি প্রমাণ করেছেন। করোনারেগী চিকিৎসাকে তিনি ব্রত হিসেবে নিয়েছেন। গভীর মমত্ববোধ, নিবিড় পরিচর্যা, পরিপালন মনিটরিংয়ে করোনার যেকোন রোগী সারিয়ে তোলা সম্ভব বলে জানালেন সুদর্শন, তরুণ, প্রতিভাবান, সজ্জন, মৃদুভাষী চিকিৎসক।

কে ডাক্তার মেহেদি হাসান!

প্রচারবিমুখ অদম্য এ তরুণ নেপথ্য-যোদ্ধা ডা: মেহেদি হাসান। বাড়ি যশোরের মনিরামপুর। চিকিৎসক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) এর মেডিকেল অফিসার ও প্যালিয়েটিভ মেডিসিন বিভাগে কর্মরত।

এসম্পর্কে কথা হয় মেহেদী হাসানের সাথে তিনি বলেন, কোভিড-১৯ রোগটি আমাদের দেশে নতুন। বর্তমান সময়ে করোনারোগী চিকিৎসার জন্য সতর্কতার সাথে সাহস ও ধৈর্য্য খুব প্রয়োজন। শিক্ষিত মানুষও অনেক সময় অসহায় ও অসতর্ক হয়ে পড়েন। শৃংখলা ও পথ্যসেবন নিয়মিত হতে হবে।

যেভাবে চিকিৎসা দেন তিনি!
ডাক্তার, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা বেশী ঝুঁকিপূর্ণ,তাদের বিনামূল্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসার কাজটি তিনি সযত্নে করছেন। সম্ভব হলে কাছে গিয়ে, টেলিফোনে, একক বা গ্রুপ ভিডিওকলে রোগী মনিটরিং করেন। নিজেই ফোন করে রোগীর খোঁজ নেন। ফোনে বার্তা দেন, ভিডিওকলে পথ্য, পরামর্শ দেন। নিজে কোয়ারেন্টাইনে থেকে রোগীসেবা দিয়ে গেছেন। আলাদা করে কোভিডের ওপর পড়াশোনার ও প্যালিয়েটিভ বিভাগে কাজের অভিজ্ঞতা তার সাফল্যে সহায়ক হয়েছে।

করোনা চিকিৎসা পদ্ধতি:

১. আক্রান্ত হলে:
★ ট্যাবলেট : Paracetamol 500 mg (১+১+১) ৩দিন। জ্বর বেশি হলে Paracetamol Suppository 500 মিঃগ্রাঃ (পায়ুপথে দিতে হবে)।
★ ট্যাবলেট: কিটোফেন ১মিঃগ্রাঃ(০+০+১) ১৫ দিন।
★ নাসাল/Nasal ড্রপ oxymetazoline Hydrochloride 0.05% (২ ফোটা ড্রপ উভয় নাকে ৩-৪ বার প্রতিদিন দিতে হবে)
★ ট্যাবলেট: Zinc Ortate 60 মিঃগ্রাঃ(১+০+১) ১৫ দিন।
★ ট্যাবলেট: সিভিট/Ceevit DS(১+০+১) ১০ দিন।
★ ট্যাবলেট: Esomeprazole 20 মিঃগ্রাঃ (১+০+১), খাওয়ার আধা ঘন্টা আগে প্রয়োজন হলে।

খাবার আগে দরকার হলে:
এ সময় “ভিটামিন সি” বেশি করে খেতে হবে ( কমলা,মাল্টা,লেবু) কালোজিরা, মধু খেতে হবে।প্রতিদিন সকালে গরম পানির ভাপ নিতে হবে ১০ মিনিট করে প্রতিদিন ৫-৬ বার। হালকা কুসুম গরম পানিতে লবণ দিয়ে গরগর কর‍তে হবে ৪-৫ বার। কফ বেশি থাকলে দরকার অনুযায়ী
ট্যাবলেটঃ M-kast ১০মিগ্রা(০+০+১) ১৫ দিন।
ট্যাবলেটঃ Doxoma ৪০০মিঃগ্রাঃ (১+০+১) ১৫ দিন।
ট্যাবলেট: Azimex ৫০০ মিঃগ্রাঃ (০+০+১) ৭ দিন।

২. ঝুঁকিতে কর্মরত হলে:
•ইম্যিউনিটি বাড়াতে হবে।
• পর্যাপ্ত ঘুম (৬-৭ ঘন্টার বেশি)
• বেশি করে ভিটামিন সি, শাকসবজি, বাদাম এবং এন্টিঅক্সিডেন্টযুক্ত খাবার

• স্বাস্থ্যসম্মত চর্বিযুক্ত খাবার যেমনঃ অলিভ অয়েল, ওমেগা৩ ফ্যাটি এসিড

• বেশি করে Fermented foods অথবা probiotic supplements সেবন
• পরিমাণ মতো শর্করাযুক্ত খাবার খাওয়া।

• সহনীয় ব্যায়ামের মধ্যে নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করে

• জলযোজিত থাকা

• স্ট্রেস লেভেল ম্যানেজ করা

• ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি, জিংক, এলডারবেরি এবং রসুন সেবন সহায়ক।

• রমযানে নামাজ, কুরআন পাঠ, ইবাদত দুশ্চিন্তামুক্ত, নির্ভার থাকতে ও ইম্যুউন সিস্টেম সমৃদ্ধে কার্যকর)